ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে, তাদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
শুক্রবার (১ মে) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এক চিঠিতে এ দাবি জানান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে ইরাভানি অভিযোগ করেন, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডান—এই দেশগুলো বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে উল্টো ইরানকেই দায়ী করার চেষ্টা করছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
ইরাভানি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবে সেসব দেশের মাটিতে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্যও উল্লেখ করেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ‘সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
চিঠিতে বলা হয়, এসব দেশের ‘আত্মরক্ষার’ দাবি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। বরং তাদের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আগ্রাসনের শামিল হতে পারে।
ইরান জোর দিয়ে বলেছে, এই সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উসকে দিতে পারে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

