দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ আরও ১৪ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত সোমবার রাতে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের ফলে বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ে। এর মধ্যে জুইজ ডি ফোরা ও উবা শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার রাতের ভূমিধসে অন্তত ১২ জন মাটিচাপা পড়েন। দুর্যোগের পর থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এর মধ্যেই বুধবার রাতে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্রেতা লুইজ ওটাভিও সুজা এএফপি-কে বলেন, ‘নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে, চারদিকে পানি আর কাদা। সিভিল ডিফেন্স আমাদের এলাকা ছাড়তে বলেছে।’ তিনি জানান, দুর্যোগের পর থেকে তার এক আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন।
জুইজ ডি ফোরার পার্ক বার্নিয়ার এলাকাটি সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চলের একটি। সোমবার রাতে কাদার ঢলে সেখানে একাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এক বাসিন্দা বলেন, ‘সবাই ভয়ে আছে। চারপাশটা যেন কোনো ভয়াবহ সিনেমার দৃশ্য।’
এএফপি’র প্রতিবেদক জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ট্রেস মইনহোস এলাকায় নতুন করে ভূমিধসে তিনটি বাড়ি চাপা পড়ে। তবে আগেভাগে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ ঝুঁকি নিয়েই নিজেদের ঘরে ফিরে আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পোষা প্রাণী উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
এদিকে, মিনাস গেরাইস প্রদেশের গভর্নর রোমেউ জেমা দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি বিনিয়োগ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত তিন বছরে দুর্যোগ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের ব্যয় প্রায় ৯৫ শতাংশ কমেছে।
জুইজ ডি ফোরার মেয়র মার্গারিডা স্যালোমাও জানিয়েছেন, চলতি ফেব্রুয়ারিতে শহরটিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলে একের পর এক এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগেও ২০২৪ সালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন বন্যায় দুই শতাধিক মানুষ মারা যান এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

