কিয়ারা আদভানির কোলে সবে মাত্র সন্তান এসেছে। উপভোগ করছেন জীবনের অন্যতম সেরা সময়। তবে মাতৃত্বের এই সুন্দর সফরের পাশাপাশি একজন নারীকে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সমাজের কেমন মানসিকতা ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবের পর নারীর শরীর ও কাজে ফেরা নিয়ে সমাজের দ্বিচারিতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
মাতৃত্ব তার জীবনে কী কী পরিবর্তন এনেছে, তা জানাতে গিয়ে কিয়ারা বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার ভেতরের সত্ত্বাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা সব দিক থেকেই ভীষণ সমৃদ্ধ।
আমার মনে হয়, এখন যে পরিচালকেরা আমার সঙ্গে কাজ করবেন, তারা আমার অভিনয়ের সেরাটা পাবেন। মাতৃত্বের এই সফর আমার জীবনের, আমার নিজের এবং এই পৃথিবীর প্রতি আমার বোঝাপড়ার একটা সম্পূর্ণ নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
নারীদের কাজে ফেরা এবং শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিয়ারা। বলেন, তবে এটি একেবারে সত্যি যে- সমাজ খুব দ্রুত নারীর কাজে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আপনি যখন গর্ভবতী থাকবেন, সবাই বলবে, ‘হে ঈশ্বর, তোমার মুখ কী দারুণ ঝলমল করছে, তোমাকে কত সুন্দর লাগছে!’ আর ঠিক যে মুহূর্তে আপনার সন্তান হয়ে যাবে, অমনি সুর বদলে যাবে। চারপাশ থেকে মন্তব্য আসবে, ‘এখন তো ওকে মোটা লাগছে, ও কেমন যেন হয়ে গেছে’।
কিয়ারা আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আপনাকে সবাই ‘দেবী’ বানিয়ে রাখবে, আর সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরের মুহূর্তেই তারা আশা করবে আপনি যেন জাদুবলে আবার আগের শারীরিক গঠনে ফিরে আসেন এবং চেনা ছন্দে দৌড়াতে শুরু করেন।
কিন্তু একটা মেয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়টা আসে সন্তান প্রসবের পর। ঠিক এই সময়টাতেই তার সবচেয়ে বেশি মানসিক ও শারীরিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

