ঢাকা সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

নোবেলের অভিযোগের বিপরীতে স্ত্রীর বক্তব্য


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩:২৯ পিএম, ৭ অক্টোবর, ২০২১
নোবেলের অভিযোগের বিপরীতে স্ত্রীর বক্তব্য

এবার বরাবরের বিতর্কীত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল ফের আলোচনায় এসেছেন বিচ্ছেদ ইস্যুতে। তার স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল গত ১১ সেপ্টেম্বর তালাক নোটিশ পাঠান । বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সালসাবিল নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ।

এরপর দেশীয় একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নোবেল। অভিযোগ করেছেন সালসাবিলকে নিয়ে। নোবেল দাবি করেছেন, সালসাবিল তাকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশের এক সেলিব্রেটি সালসাবিলকে হায়ার করেছে নোবেলের ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য।

অভিযোগ করে নোবেল সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, তার পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র গায়েব করে দিয়েছেন সালসাবিল। ব্যাংক থেকেও ৩০ লাখ টাকা সরিয়েছেন তিনি।

অভিযোগগুলো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালসাবিল বলেন, ‘ও (নোবেল) যেসব অভিযোগ করেছে সেগুলো হাস্যকর। ন্যূনতম পড়াশোনা করা মানুষ যদি এ অভিযোগগুলো পড়ে তাহলে হাসবে। কারণ ও যেভাবে বলেছে, কথাগুলো এভাবে হওয়া সম্ভব না।’

সালসাবিল আরও বলেন, ‘নোবেল আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমার ফেসবুক আইডি, পেজ রিপোর্ট করে নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে।’

জাতীয় পরিচয়পত্র গায়েবের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালসাবিল বলেন, ‘আমাদের বিয়ের আগে ও একবার খুলনা গিয়েছিল। তখন ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। খুলনায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যায়। সেখানেই সে পরিচয়পত্র হারায়। ওইটার ব্যাপারে নোবেল জিডিও করেছে। ওর ম্যানেজার বিষয়টা জানে। তার অনেক পরে আমাদের বিয়ে হয়। ও জিডি করেছিল, ওর পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে। এখন বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বললে তো হবে না।’

ব্যাংক থেকে টাকা সরানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে মেহরুবা সালসাবিল বলেন, ‘তার অ্যাকাউন্ট হলো সিটি ব্যাংকে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কখনো ৩০ লাখ টাকা একবারে তোলা হয়নি। ও নিজেও উঠায়নি। যদি বলত, ওর বাসা থেকে টাকা নিয়ে গেছে তাহলে হয়তো বিশ্বাসযোগ্য ছিল। কারো ব্যাংক থেকে অনুমতি ছাড়া এত টাকা তোলা যায়? সত্যি কথা বলতে কি, ওর কাছ থেকে আমি ফিনান্সিয়াল হেল্প পাইনি। বরং আমার ফ্যামিলি থেকে নোবেল ফিনান্সিয়াল হেল্প নিয়েছে। সেগুলোর প্রমাণ আমার কাছে আছে।’

হত্যাচেষ্টা বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন সালসাবিল। তার ভাষায়, ‘এটা কি আসলে সম্ভব? যদি তাকে বিষ খাওয়ানো হয়ে থাকে তাহলে সে কি হাসপাতালে যায়নি? বিষ খাওয়ানোর পর হাসপাতালে গেলে ওয়াশ করে। ওকে কি ওয়াশ করানো হয়েছিল? সেগুলোর প্রমাণ কোথায়? ও কোন হাসপাতালে ছিল সেটার প্রমাণ দিতে বলেন। আমার কাছে সব প্রমাণ আছে। জিডি, আমাকে মারধরের মেডিকেল সার্টিফিকেট, প্রত্যক্ষদর্শী সবাই আছে।’

সালসাবিল আরও বলেন, ‘আসলে নতুন করে আমার কিছু বলার নেই। সবকিছু সবার সামনে। ও একটি মেয়েকে নিয়ে বান্দরবান গিয়েছিল। স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একসঙ্গে থেকেছে, ছবি আপ করেছে। নেশা নেওয়ার ছবি তার পেজে প্রকাশ করেছে। হোটেলে সমস্যা করেছে। এগুলো আমরা জানি। ওর সবকিছুর প্রমাণ আছে, সবাই দেখেছে। তাই মিথ্যা কথা বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করাটা নিতান্তই বোকামি।’

২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর নোবেলকে বিয়ে করেছিলেন মেহরুবা সালসাবিল। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি তাদের। এদিকে নোবেল নিজেও তার ফেসবুকে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার (৬ অক্টোবর) ফেসুবকে লিখেছেন, ‘ডিভোর্সড’। তাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা।

এতকিছুর পরও নোবেলের সুস্থতা কামনা করেছেন সালসাবিল। ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যদিও আমার পাঠানো ডিভোর্স লেটারে সাইন দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমি এখনো জানি না। একটা ডিভোর্স অথবা সংসার ভেঙে যাওয়া কখনোই সুন্দর কিছু না। তারপরও আমি নোবেলের সার্বিক সুস্থতা কামনা করি। তার ভবিষ্যতের জন্য আমার তরফ থেকে সব সময় দোয়া থাকবে।’

আলাপকালেও বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সালসাবিল নোবেলর মানসিক সুস্থতা কামনা করেছেন।


একুশে সংবাদ/স/তাশা