জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবিতে কাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাতের হামলায় কমপক্ষে ৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়ছে বলে জাবি মেডিকেলের চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রথমে জাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে তারা তিন দফা দাবিতে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন।
তাদের দাবি, শনিবার দুপুর ২টার মধ্যে আবাসিক হল খুলে দিতে হবে, গতকালের হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে, গেরুয়া এলাকার সঙ্গে ক্যাম্পাসের সংযোগ এলাকায় স্থায়ীভাবে দেয়াল তুলে দিতে হবে। এদিকে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার দাবিও তারা তোলেন।
এদিকে, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি আদায় না হলে আমরা এখান থেকে সরব না। আর ২টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
গতকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাবি সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকলে একত্রিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে আভিযোগ রয়েছে।
গণ্ডগোলের শুরুর দিকে কয়েকজন পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আন্তত ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে সংঘর্ষ বাড়লে দীর্ঘক্ষণ পরে অতিরিক্ত পুলিশ আসে। কিন্তু তারাও ছিল নির্বিকার।
এদিকে স্থানীয়দের হামলার ভয়ে মেস ছেড়ে আসা শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। তারা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রাতেই হল খোলার দাবি জানাচ্ছে। তবে প্রশাসন তাদের এ দাবিতে কর্ণপাত করেনি। ফলে তারা আশ্রায়হীনভাবে রাস্তায় অবস্থান করছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে সফল কোনো আলোচনায় বসতে পারেনি।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগের একটি ক্রিকেট ম্যাচে বাকবিতণ্ডার জের ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ চলছিল জাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর। এই ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা জাবি শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা করে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
একুশেসংবাদ/অমৃ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

