AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বাংলা নববর্ষ বরনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের মৃৎশিল্পীরা



বাংলা নববর্ষ বরনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের মৃৎশিল্পীরা

বাংলার চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মৃৎশিল্পীদের আঙিনা। সারা বছর মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও, বাংলা নববর্ষের মেলা ও উৎসব ঘিরে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের কারিগররা।

​সরেজমিনে পাইকপাড়া গ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। বৈশাখী মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত মাটির ঘোড়া, হাতি, ময়ূর, পুতুল এবং হরেক রকমের হাঁড়ি-পাতিল তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে ছোট-বড় সবার। কেউ কাদা মাটি দিয়ে শৈল্পিক রূপ দিচ্ছেন, কেউ রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করছেন, আবার কেউ রঙের তুলিতে মাটির খেলনাগুলোকে করে তুলছেন জীবন্ত।

​মৃৎশিল্পী নয়ন পাল ও জবা পাল জানান, "বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে আছি। বৈশাখী মৌসুমটাই আমাদের প্রধান আশা। এই সময়ে বিক্রি ভালো হলে সারা বছরের আর্থিক লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।" তবে বর্তমান বাজারের প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের দাপটে মাটির কদর কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেটু ও বিকাশ পাল। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও পুঁজির অভাব এবং আধুনিকতার চাপে এই শিল্প এখন হুমকির মুখে।

​পৈতৃক পেশা ধরে রাখা অনেক পরিবারের জন্যই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিন্টু পাল নামের এক কারিগর বলেন, "সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে হয়তো আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো।"

​এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, "প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কিছু পরিবারকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।"

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া জানান, বর্তমানে মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ কোনো প্রণোদনা না থাকলেও ভবিষ্যতের সুযোগ অনুযায়ী তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

​শত প্রতিকূলতা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও এই বৈশাখে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন চাঁদপুরের শত শত মৃৎশিল্পী পরিবার। তাদের তৈরি মাটির তৈজসপত্র আর খেলনা দিয়েই হয়তো এবারের বৈশাখী মেলা পূর্ণতা পাবে চিরায়ত গ্রামীণ আমেজে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!