রাজশাহীর তানোরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে শিক্ষক সমিতির ভোজ ও চেক বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালের দিকে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সভা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তানোর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সভা।
সভার জন্য সকাল থেকেই উপজেলার ১৪ টি স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন বেশ কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আবার পরদিন অনেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন।
শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এমন সভার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীরা। ফলে বন্ধ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার শিক্ষক সমিতির সভাকে কেন্দ্র করে উপজেলায় ১৪ স্কুল ছুটি দেয় প্রধান শিক্ষকরা। অনেক শিক্ষার্থী ছুটির বিষয়ে জানতে না পেরে স্কুলে এসে ফেরত গেছেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তানোর শাখার সভাপতি আ"লীগ নেতা চৌবাড়িয়া মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী।
সুত্র জানায়, উপজেলায় শিক্ষক সমিতি রয়েছে দুটি। তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তানোর উপজেলা শাখা। উপজেলায় ৬১ টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ টি স্কুল বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি তানোর শাখার আওতায় এবং বাকিগুলো তানোর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতির আওতায় রয়েছে। শিক্ষক সমিতি নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে রয়েছে লবিংগ্রুপিং।
অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। ছেলে মেয়েরা স্কুল মূখী হয়েছে। আর এসময় সভার নামে একদিন স্কুল বন্ধ রাখা মানে পিছিয়ে পড়া। ১৪ টি স্কুল বন্ধ করা হল। বাকিগুলো চালু ছিল।
এক জায়গায় এত নিয়ম হলে কিভাবে পাঠদান সঠিক হবে। শিক্ষকদের মাঝে এত লবিং গ্রুপিং হলে সঠিক ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলে না। এজন্য সবাইকে এক সমিতিতে আসতে হবে। কারন দুই সমিতি দুই রকম গাইড পরিচালনা করছেন। যার কারনে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
তানোর পৌর সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের কাছে প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বছরে তিন দিন সংরক্ষিত ছুটি দিতে পারে প্রধান শিক্ষকরা। একারনে বুধবারে বন্ধ করে সমিতির বার্ষিক সভা ও ভোজ হয়েছে। এটা তেমন কোন সমস্যা না। শুধু তানোর না নাচোল ও নিয়ামতপুর মিলে ২৯ টি স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা সভায় অংশ গ্রহণ করেন।
শিক্ষক সমিতির তানোর শাখার সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আহসান হাবিবের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে স্কুল বন্ধ করে সভার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা তেমন কোন সমস্যা না। শিক্ষা বিষয়ে সভা হয়েছে এবং অবসর জনিত ভাতা প্রদান করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ করলে কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করতে হবে জানতে চাইলে তিনি কোন সদ উত্তর দেননি।
জেলা শিক্ষক সমিতির আহবায়ক হযরত আলী জানান, স্কুল বন্ধ ছিলনা। সবাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সভায় এসেছে। আর সভা শুরু হয়েছে সাড়ে ১২ টার দিকে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার সায়মা আঞ্জুমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে স্কুল বন্ধ করে সভা করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুল বন্ধ করলে কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করতে হবে। কিন্তু গত বুধবারে সভার বিষয়ে অফিসে কোন চিঠি দেয়া হয়নি। আজ অফিসে নেই খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তানোর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার এসএম মাহমুদ হাসানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে বিষয় টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সভা করার কোন সুযোগ নেই।
শিক্ষকরা বলছে বছরে তিন দিন সংরক্ষিত ছুটি দেয়া যায় এজন্য গত বুধবার বন্ধ করে সভা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা সংরক্ষিত ছুটি দিতে পারে কিন্তু কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, তাছাড়া স্কুল বন্ধ করার কোন এখতিয়ার নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

