নাটোরের বড়াইগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলপ্রতি ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা এবং দেশে স্বল্প দিনের তেল মজুদ রয়েছে—এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১০০ টাকার বেশি তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক মোটরসাইকেল আরোহী। তাদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেট ব্যবসার চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যেই প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসেও ১০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া গেলেও কোথাও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাস ও ট্রাকপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার বনপাড়া মদিনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কৃষ্ণপদ প্রামাণিক বলেন, “তেলের ডিপোতে অনেক চেষ্টা ও তদবির করে এক গাড়ি পেট্রোল ও এক গাড়ি ডিজেল আনতে পেরেছি। সবাই যেন কিছুটা হলেও তেল পায়, সে জন্যই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই এই তেল শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর হয়তো ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হতে পারে।”
উপজেলার আহম্মেদপুর কানন ফিলিং স্টেশনের মালিক ধীরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা সীমাবদ্ধতা বজায় রাখছি। যাতে কেউ সংকটের অজুহাতে তেল মজুদ করতে না পারে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তথ্যমতে দেশে ১৪ দিনের ডিজেল, ১৭ দিনের অকটেন এবং ৯ দিনের পেট্রোল মজুদ রয়েছে—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রচারের পর জনমনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ছালাম বলেন, তেল সংকট নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ালে, তেল মজুদ করলে বা আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ঘটালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে কিছু সংকট দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রভাবের ফল। তবে এটি সাময়িক এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

