AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

লেবুর হালি ১০০, কলার হালি ২৫


Ekushey Sangbad
এহসান বিন মুজাহির, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
১০:২৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লেবুর হালি ১০০, কলার হালি ২৫

রমজানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবু, কলা, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, বেগুন, শশা, পেয়াজসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

যদিও বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর টিমের মাধ্যমে মনিটরিং জোরদারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেলার শ্রীমঙ্গলে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যাবধানে লেবুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে; প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০টাকায়; গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা।

দুপুরে শহরের বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি কোথাও ১৮০ টাকা এবং ১৯০টাকা বিক্রি হচ্ছিল। দোকানিরা সংবাদকর্মী পরিচয় শুনে তড়িঘড়ি করে ১৯০ টাকার মুরগির দাম কমিয়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে শুরু করেন, যোগ করেন ক্রেতারা।

এ সময় দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবির মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬৫ টাকা ছিল। আজ বুধবার সকাল থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব করছেন।

দাম কেন বেশি রাখা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে শহরের কালিঘাট রোডের ব্যবসায়ী শিপন মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় আমরা মুরগি পাচ্ছি না। আর পেলেও দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আর মানুষের কাছে দাম একটু বেশি না চাইলে চলে না। তারা কোনো না কোনোভাবে আমাদের ১০-২০ টাকা কম দেন। ওই ব্যবসায়ী বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেও আমরা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি, এখন ১৯০টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী রমজান মিয়া বলেন, শুধু ব্রয়লার মুরগি নয়, দাম বেড়েছে সোনালি এবং দেশি মুরগিতেও। ৫০০ টাকার কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, ২৭০ টাকার সোনালি মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি।

আমাদের কিছু করার নেই। শীতে অনেক মুরগি মারা গেছে। তাই দাম একটু বেড়েছে।

কয়দিন আগে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বুধবারের বাজারে কেজিতে দাম ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরু কম উঠছে, তাই দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে।

ক্রেতা সৈয়দ আহমদ বলেন, রমজান মাস আসলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ৯০০ টাকা কেজির কমে কোনো দোকানেই গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। আজ সিন্দুরখান রোডের বিসমিল্লাহ মাংসের দোকান থেকে ৯০০ টাকা এবং রেলগেইটে ১১০০ টাকা কেজিতে গোশত বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা দাম বেশি দিয়েই গরুর মাংস কিনছি।

রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে লেবু, বেগুন, শশা ও কলার। রমজানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেবু, কলা এবং শশার দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন ক্রেতারা।

ক্রেতা আবু বকর বলেন, গতকাল বাজার থেকে এক হালি লেবু কিনেছি ১০০টাকায়, এক কেজি বেগুন কিনেছি

 ১০০ টাকায় এবং শসা ৭০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও অর্ধেক কমে বিক্রি হয়েছে এসব পণ্য। 

ক্রেতা আশিকুর বলেন, গত কয়েকদিন আগেও এক হালি কলা ১২-১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ কলার হালি ২০-২৫টাকা। প্রতি হালি লেবুর দাম চাচ্ছে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ৪০ টাকা হালি লেবুর মান খুবই খারাপ। রমজান আসলেই নানা অজুহাতে এসবের দাম বাড়ানো হয়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শশাও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে কেজিতে। বাজার মনিটর জোরদার না করা হলে চলা অসম্ভব হয়ে পড়বে আমাদের মত মানুষের।

তবে ব্যবসায়ী আলাল মিয়া বলছেন, রমজান উপলক্ষে লেবুর দাম বাড়েনি। প্রায় মাসখানেক ধরেই চড়া দাম। কারণ আমদানি কম।

কলা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল বলেন, আমরা আড়ত ব্যবসায়ীদেন কাছে এক ধরণের জিম্মি। বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কলাও পাওয়া যাচ্ছে না।

নতুন বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল বারিকবলেন, গত রমজানের তুলনায় এবার সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বেগুন ৭০টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১৬০টাকা, গতবছর এগুলোর দাম আরও বেশি ছিল। তবে শশা এবং লেবুর দাম বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে আমদানি কম তাই।

ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া বলেন, রমজানের অন্যতম পণ্য হচ্ছে ছোলা বুট। এবার এই পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে পেঁয়াজ কেজিতে ১০টাকা বেড়ে খুচরা ৭০টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, রমজান কেন্দ্র করে যেনো ব্যবসায়ীরা কোন দ্রব্যের অতিরিক্ত দাম নিতে না পারেন সেই লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে মোবাইল টিম বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি বাজার আমরা আজও মনিটং করেছি। অন্যান্য রমজানের তুলনায় বাজারে নিত্যপণ্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। মুরগি, পেয়াজ, রসুনসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। নিত্যপণ্যেন দাম স্থিতিশীল থাকতে প্রশাসনের যৌথ টিম বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কিছু দোকানে মূল্যতালিকা না থাকায় জরিমানা করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্যে ভেজাল ও অতিরিক্ত মুনাফার মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!