বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি কিংবা মামলাবাজ নেই। আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকেও প্রশ্রয় দেব না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের সব প্রস্তাব মেনে নেওয়ার শর্তে ১১ দল একত্রিত হয়েছে। এই জোটের কোনো প্রার্থী নারী নির্যাতনকারী, মানুষের অধিকার হরণকারী বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। যাচাই-বাছাই করেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। আমরা একটি নতুন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই সুযোগ এসেছে, তাই এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ সবাই নিরাপদ থাকবে। নারীরা ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলে সম্মান ও নিরাপত্তা পাবে। শিক্ষাব্যবস্থা হবে দেশ গড়ার উপযোগী এবং যুবসমাজকে বেকার ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না।
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তি—সবার জন্য আইন সমান হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি একই অপরাধ করলে একই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, কর্মজীবী নারী শ্রমিকদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাষ্ট্র কখনো প্রতিপক্ষ হবে না।
জনসভায় ভোটের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, আর দ্বিতীয় ভোট দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’।
এ সময় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক। জনসভায় গোদাগাড়ী-তানোর এলাকার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও নারী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

