গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্ত:নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতিসহ টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে টিকিট বিক্রি উপলক্ষ্যে শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান সড়কে আনন্দ র্যালী এবং স্টেশন এলাকায় সকাল থেকে ব্যান্ডপার্টিসহ আনন্দ উল্লাস করে শ্রীপুরের সকল শ্রেণী পেশার লোকজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সকল শ্রেনি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় আন্ত:নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা বিরতি বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এসব আয়োজন করা হয়।
শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী এবং ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস
ট্রেন যাত্রা বিরতি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক তপন বণিক বলেন, গত প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, দলমত নির্বিশেষে ও ট্রেন যাত্রীদের নিয়ে দুই বেলা লাল কাপড় দেখিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। অবশেষে রেল বিভাগ তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে শ্রীপুর রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর। এ উপলেক্ষ্যে আয়োজক কমিটি সকাল থেকে স্টেশনে ব্যান্ডপার্টি এনে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন বলেন, শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘ এবং শ্রীপুর বাজারের কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আন্ত:নগর ব্র²পুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে একাধিকবার ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর স্টেশনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্র²পুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবির আন্দোলন গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় রেল বিভাগ তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এতে করে তিন বছরের দুর্ভোগ ও আন্দোলন-সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটেছে।
স্পেশাল রেন্সপন্স টিমের (এসআরটি) সভাপতি জুবায়ের আহমেদ বলেন, আন্দোলনকারীরা ব্র²পুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির গুরুত্ব উল্লেখ করে অনেকের স্বাক্ষর ও সুপারিশ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। শ্রীপুর থেকে সড়কপথে স্বভাবিক সময়ে ঢাকা যেতে সময় লাগে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। কিন্তু চলমান যানজট, বিরতিহীন যানবাহন না থাকায় শ্রীপুরবাসীকে ঢাকা পর্যন্ত ৬৫-৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে কমপক্ষে চার ঘণ্টা। কিন্তু ব্র²পুত্র এক্সপ্রেসে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় লাগে এক ঘণ্টা।
আকবর আলী বলেন, এ আন্দোলনে যারাই অংশগ্রহণ করেছেন তারাই নিজের পকেট থেকে টাকা, কায়িক শ্রম ও সময় ব্যয় করেছে। সবই হয়েছে জনস্বার্থে। এরকম একটি সফলতা আবারও প্রমাণ করে দিলো জনস্বার্থ ও নিঃস্বার্থ কাজে মানুষ কখনও বিমুখ হয় না। তিনি বছর পর হলেও আন্ত:নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এর দাপ্তরিক অনুমোদন পেলো।
মতিউর রহেমান বলেন, শ্রীপুর উপজেলা শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওায়ায় প্রতিদিন শ্রীপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকা এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। সড়ক পথে যানজটের কারণে ভোগান্তি হয়। বিকল্প হিসেবে রেলপথ ব্যবহার করে তাদের যেমন সময় বাঁচবে তেমনি স্বাচ্ছন্দ্য গন্তব্য যাত্রা করতে পারবে। শ্রীপুরে সব আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রাবিরতি দিলে সরকার প্রচুর রাজস্ব পাবে।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, রবিবারই (১৮ জানুয়ারি) প্রথম আন্ত:নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রারিবতির অনুমোদন পেয়েছে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশন ছেড়ে যাবে, আবার কমলাপুর স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় শ্রীপুর স্টেশন পৌঁছাবে। এ স্টেশন থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত ৭০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সিটসহ ১০টি টিকেট অনুমোদন হয়েছে। প্রথম দিনে নির্ধারিত ১০টি টিকেটের বাহিরে আরো ৬১টি স্ট্যান্ডিংসহ মোট ৭১টি টিকেট বিক্রি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সাল থেকে শ্রীপুর রেলস্টেশনে ব্রক্ষèপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনটির যাত্রাবিরতি করে মাত্র সিটসহ ১০টি টিকেট বিক্রির অনুমোদন দেয়। তবে যাত্রীর তুলনায় টিকেটের সংখ্যা একেবারেই কম হয়েছে বলে দাবি করেন এ ট্রেনে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

