AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

চলনবিলে শুঁটকির ভরা মৌসুমে মাছের আকাল, ভাঙ্গুড়ায় উৎপাদন ব্যাহত


Ekushey Sangbad
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি, পাবনা
১২:১৪ পিএম, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

চলনবিলে শুঁটকির ভরা মৌসুমে মাছের আকাল, ভাঙ্গুড়ায় উৎপাদন ব্যাহত

খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ অনেক পুরোনো একটি পদ্ধতি হলেও এখনও জনপ্রিয়। মাছ যখন শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে আমরা শুঁটকি মাছ বলে থাকি। শুঁটকি মাছের একটি আলাদা গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে। অনেকেই শুঁটকি মাছ খেতে খুবই পছন্দ করেন; অনেকে আবার শুঁটকি মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। কারও কারও কাছে শুঁটকি মাছের ভর্তা ও নানা রকম পদ অত্যন্ত পছন্দনীয়।

চলনবিলের মিঠা পানির পুঁটি, খৈলসা, চান্দা, ইচা, টেংড়া, গুচি, ক্যাকিলা, টাকি, শোল ও বোয়াল মাছের শুঁটকির কদর রয়েছে দেশজুড়ে। পাবনা জেলার মধ্যে বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার পাশাপাশি ভাঙ্গুড়া উপজেলা শুঁটকি উৎপাদনে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস এলেই বিল, নদীপাড়ে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত চাতাল বসিয়ে কর্মযজ্ঞ শুরু করেন শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত খামারিরা। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন তারা। যেটা অধিক স্বাস্থ্যসম্মত এবং চাহিদাসম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশি মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলের উজানের বিস্তীর্ণ মাঠের পানি নেমে যাওয়ায় শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের শ্রমিক। প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে মাছ শুকিয়ে এখান থেকেই তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। তবে শুঁটকির ভরা মৌসুমে কোথাও কোথাও মাছের দেখা মিলছে না। সাধারণত তিন থেকে চার দিনের টানা রোদে মাছ ভালোভাবে শুকিয়ে ওঠে। কিন্তু চলতি মৌসুমে একাধিক দফা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শুঁটকি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আড়ত থেকে মাছ ক্রয়ের পর পৌঁছে যায় শুঁটকির চাতালে। ভোরের আলো ফোটা থেকে শুরু হয় নারী-পুরুষদের কর্মযজ্ঞ। মাছে লবণ মাখানো, মাপজোখ করা, বহন করে মাচায় নেওয়া, শুঁটকি উল্টে-পাল্টে নাড়া, শুঁটকি বাছাই করাসহ আরও কত কাজ। চাতালে শোল, বোয়াল, খৈলসা, টাকি, টেংড়া, পুঁটি, শিং, বেলে, সরপুঁটি, ছোট চিংড়ি, বাইম, চাপিলা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার শুঁটকি ব্যবসায়ী আনছার আলী বলেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসই শুঁটকির প্রধান মৌসুম। একসময় ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, পুকুর, নদী-নালায় প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এ বছর মাছ নেই বললেই চলে। বেশ কিছুদিন যাবৎ শুঁটকি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মা মাছসহ অন্যান্য মাছ শিকার করার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও প্রজনন কমে গেছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলী আজম বলেন, শুঁটকি শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। টানা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও কয়েকদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শুঁটকি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। শ্রমিক ও ব্যবসায়ী মৌসুমের শুরুতেই কাজে নিয়োজিত হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!