AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

তানোরে পূর্ব শক্রতার জেরে বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ


Ekushey Sangbad
সারোয়ার হোসেন, তানোর, রাজশাহী
০৬:৩৭ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

তানোরে পূর্ব শক্রতার জেরে বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

রাজশাহীর তানোরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্ব শক্রতার জেরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা পাঁচটি অসহায় দরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন, হাতিশাইল গ্রামে।

এঘটনায় বয়োজ্যেষ্ঠ আসমা বেওয়া বাদি হয়ে হাতিশাইল গ্রামের আব্দুল মতিন ওরফে আকুল, আব্দুল মান্নান ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ নামমাত্র তদন্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। এর আগে প্রায় ৯ বিঘা জমির ধান ভাড়াটিয়া লোকজন কর্তৃক কেটে নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া বাহিনী বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ঘটনার পর থেকে পাঁচ পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় রান্না বাড়ি করা সম্ভব হলেও তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল গ্রামের পূর্বদিকে আম বাগান, পশ্চিমে পুকুর এবং বাগানের ভিতরে টিনের ঘরে পাঁচ পরিবার বসবাস করতেন। ভোরে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধান কেটে ট্রাকে বোঝাই করে নিয়ে যায়। আম বাগানের দক্ষিণে তিনটি টিনের ঘর ভাঙা হয় এবং সামনের রান্না চুলা পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়। বাড়ি থেকে ধান, চাল, টাকা-পয়সা এবং পানির মটারও লুট করা হয়।

বয়োজ্যেষ্ঠ আসমা বেওয়া জানান, তিনি দীর্ঘ নয় বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন। কিন্তু বুধবার ভোরে প্রতিপক্ষের লোকজন এসে দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যমে তার ঘর ভাঙে ও লুটপাট চালায়। ৯৯৯ ফোন করেও পুলিশ সময়মতো এসে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

আসমা বেওয়ার নাতি এরশাদ বলেন, “আমরা দীর্ঘ নয় বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। কিন্তু বুধবার ভোরে আমাদের ঘর ভাঙা হয়েছে। আইন আদালত আছে, কিন্তু এভাবে ঘরভাঙা ও লুটপাট করা অগ্রহণযোগ্য। অভিযোগের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কারণ তারা প্রভাবশালী।”

আসমা বেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, পিতা ফকির কারিকরের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সুত্রে জমি প্রাপ্ত হন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। এর মধ্যেই বিবাদী আব্দুল মান্নান ওরফে বিপুল জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপরও তাদের ভোগদখলীয় জমি থেকে ধান কেটে নেওয়া হয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙা ও লুটপাট চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক করার কথা ছিল। তবে বিবাদীরা উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠক হয়নি। অভিযুক্ত আব্দুল মতিন ওরফে আকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আফজাল হোসেন মোবাইলে জানিয়েছেন, “মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলব।” পুনরায় ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!