চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশেই দেখা যায় একপাল গাড়ল। বিকেলে প্রাণীগুলো চরছে, ঘাস খাচ্ছে এবং সন্ধ্যার আগে রাখালের নির্দেশে খামারে ফিরে যাচ্ছে। এই গাড়লের খামারের মালিক হলেন হেবুল মণ্ডল, যিনি এলাকায় হেবুল নামে পরিচিত।
হেবুল প্রায় ২২ বছর ধরে গাড়ল পালন করছেন। ২০০৪ সালে তিনি ছোট পরিসরে ১২টি গাড়ল দিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৫৫০টি গাড়ল। গাড়লের বাজারমূল্য আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা। প্রতিবছর তিনি ৩০-৩৫ লাখ টাকার গাড়ল বিক্রি করেন। তিন রাখালের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে বছরে তাঁর আয় গড়ে ৫-৬ লাখ টাকা। গাড়ল খামারের আয় থেকে জমি কিনেছেন, বাড়ি নির্মাণ করেছেন, মোটরসাইকেল কিনেছেন এবং মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
হেবুল জানান, গাড়ল খুবই শান্ত স্বভাবের প্রাণী। নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার দিলে ঝুঁকি নেই। তবে শীতকালে বাসস্থান নিরাপদ রাখতে হয়। নিয়মিত কৃমিনাশক ও টিকার মাধ্যমে গাড়লকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমান আলী বলেন, “হেবুল একসময় অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেছিলেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।”
হেবুলের খামারে গাড়লের পাশাপাশি রয়েছে ১২০টি ছাগল, ১৫০টি হাঁস-মুরগি এবং কবুতর। তিনি গাড়লের পরিচর্যা, খাওয়াদাওয়া ও বিক্রির বিষয়ে স্থানীয়দের পরামর্শ দেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় মোট ৪২,৭২১টি গাড়ল পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পালন হচ্ছে দামুড়হুদা উপজেলায়—২১,৩৯৭টি। অন্যান্য উপজেলায় সদর—১১,৫২৯টি, আলমডাঙ্গা—৭,৮০০টি এবং জীবননগর—১,৯৮৫টি।
হেবুল বলেন, “গাড়ল মূলত ভেড়ার জাত। একটি পরিপূর্ণ গাড়লের ওজন হয় ৬০-৮০ কেজি এবং এটি ৫০-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বাচ্চা গাড়লের দাম ৮-১০ হাজার টাকা।” তিনি জানান, খামারি ও উদ্যোক্তারা গাড়ল ও মাংস কিনে থাকে।
দামুড়হুদার আরেক খামারি নাসিরুল ইসলাম বলেন, “সঠিক যত্ন নিলে অল্প সময়ে লাভবান হওয়া যায়। গাড়লের খাবারও সহজলভ্য। সবুজ ঘাস, খড়কুটো ও ভুট্টা খাওয়ালে ভালো বৃদ্ধি পায়।”
খামারের রাখাল আরমান বলেন, “সকালবেলা ঘর পরিষ্কার করে দানাদার ও সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয়। দুপুরে গাড়ল চারণভূমি ও খামারের পাশের মাঠে চরানো হয়। সন্ধ্যার আগে খামারে ফিরিয়ে পানি খাওয়ানো হয়। শীতকালে বাসস্থান ঢেকে দেওয়া হয়। বাচ্চাদেরও গরম কাপড় দিয়ে রাখা হয়।”
দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, “গাড়ল একটি সম্ভাবনাময় খাত। হেবুল মণ্ডল জেলায় গাড়ল পালনে সফল ও বড় উদ্যোক্তা। আমরা নিয়মিত তাঁর খামারে পিপিআর ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক দিয়ে সহযোগিতা করি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক আ হ ম শামীমুজ্জামান জানান, “গাড়লের সাধারণত পিপিআর ও কৃমি সংক্রান্ত রোগ হয়। এগুলো প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

