চিতলমারীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। এসময় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলারও উৎসব। এ উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার এফ এম ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্গোৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অশান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করি।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা গাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সব ধরনের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি।
সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী রুনা গাজী বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান সফল হয় না। দুর্গোৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারী পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর দাবি জানাই।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক শেখ, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নিয়ামত আলী খান, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কাশীনাথ বৈরাগী, উপজেলা সদস্যসচিব অনুপম সাহা, ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. আবুল কালাম কাজী এবং এনসিপি নেতা মো. রহমত শেখ বক্তব্য দেন।
কাশীনাথ বৈরাগী বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সেটি আমাদের প্রধান দাবি।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন যে, দুর্গোৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সব স্তরের মানুষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

