ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

আদালত না থাকায় হাজিরা দিতে যেতে হচ্ছে ৫’শ কিলোমিটার দুরে


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি
১২:৪৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২
আদালত না থাকায় হাজিরা দিতে যেতে হচ্ছে ৫’শ কিলোমিটার দুরে
ছবি একুশে সংবাদ

ছবি একুশে সংবাদ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আবুল হাসেম, ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পীরগঞ্জ জোনাল আফিসের একজন আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহক। বাড়ি পীরগঞ্জ পৌর শহরের মিত্রবাটি গ্রামে। কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনা মহামারির কারণে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল দিতে পারেন নি। এতে তার ৫ হাজার ২০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। সে টাকা আদায় করতে ২০২১ সালে ঢাকায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা করেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। মামলা নং ৯৩৯/২১। নোটিশ পাওয়ার পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর পল্লী বিদ্যুতের পীরগঞ্জ জোনাল অফিসে মামলায় দাবীকৃত বকেয়া ৫ হাজার ৫০৭ টাকা পরিশোধ করেন তিনি।

 

এর পরও মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাননি। ৫’শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তাকে হাজিরা দিতে যেতে হয়েছে ঢাকার ঐ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ। এরই মধ্যে মামলার হাজিরা দিতে তিনবার ঢাকায় যান তিনি। দু’বার আদালত বসেনি। একবার বিচারক ছিল না। 

 

মামলায় উকিল নিয়োগ সহ যাওয়া আসায় এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের আদালত না থাকায় হাসেমের মত এ অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক খেলাপী গ্রাহককে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রাহকরা চরম হয়রানী শিকার হচ্ছেন। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। শারীরিক এবং মানষিক ভাবে কষ্ট ভোগও করতে হচ্ছে তাদের। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, সারা দেশের পল্লী বিদ্যুৎ বিল খেলাপী সহ বিদ্যুৎ চুরি ও পল্লী বিদ্যুতের অন্যান্য অপরাধ বিচারের জন্য রাজধানী ঢাকায় ২টি আদালত ছাড়া অন্য কোন জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের আদালত নেই। 

 


ঐ দুই আদালতেই সারা দেশের খেলাপী গ্রাহকদের মামলায় হাজিরা দিতে হয়। ভুক্তভোগীরা জানায়, হাজিরা দিতে গিয়ে অনেক সময় দালালদের খপ্পরে পরে প্রতারিত হতে হয় অনেককে। 

 

নাজেহাল হতে হয় অর্থনৈতিক ভাবে। একটি সুত্র জানায়, খেলাপী গ্রাহকরা বকেয়া পরিশোধ করলেই মামলা থেকে অব্যহতি পাওয়ার কথা। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের গাফিলাতির কারণে বকেয়া পরিশোধ করার পরও বছরের পর বছর ঘুড়তে হচ্ছে তাদের। হাজিরা দিতে যেতে হচ্ছে ৫/৬’শ কিলোমিটার দুরে। আবুল হাসেম জানান, ৫ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি। তার পরও দায় মুক্তি পাচ্ছি না। হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। হয়রানি হতে হচ্ছে। আশে পাশে পল্লী বিদ্যুতের আদালত থাকলে হয়রানি হতে হতো না। তেমন টাকাও খরচ হতো না।

 


এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম বলেন, জেলা বা বিভাগ পর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের কোট না থাকায়। মানুষ হয়রানি হচ্ছে। জনগনের সুবিধার্থে জেলায় জেলায় এ কোট থাকা দরকার। ঠাকুরগাও জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. আবু সায়েম বলেন, আইনী সেবা সহজতর করতে পল্লী বিদ্যুত সমিতিগুলি নিজ নিজ এড়িয়ার মধ্যে আদালত থাকা একান্ত জরুরী।

 

ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পীরগঞ্জ জোনাল আফিসের উপ-মহা ব্যবস্থাপক বাচ্চু মিয়া বলেন, তার অফিসের অধীনে ঢাকায় পল্লী বিদ্যুত সমিতি আদালতে বেশ কিছু খেলাপী গ্রাহকের নামে মামলা আছে। তাদের হাজিরা দিতে সেখানেই যেতে হয়। এটা সত্য। আমাদের করার কিছুই নেই। মামলার ক্ষেত্রে তাদের কোন গাফিলাতি নেই। বকেয়া পরিশোধের পর তারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন। তখন আদালতই সিদ্ধান্ত দেন। এতে তাদের কোন হাত নাই।

 

একুশে সংবাদ/লাতিফুর রহমান লিমন/এইচ আই