ঢাকা রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

পূর্ণাঙ্গ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আগামীকাল


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
১১:৪১ এএম, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
পূর্ণাঙ্গ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আগামীকাল

পূর্ণাঙ্গ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর  ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) ওপর ৪১তম স্প্যান ‘২এফ’ নম্বর বসছে কাল বৃহস্পতিবার। ইতোমধ্যে স্প্যানটিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে মাওয়া কুমারভোগের কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ৩২শ’ টন ওজনের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই স্প্যানটি নিয়ে খুটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিকে ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান ই’। পরে বৃহস্পতিবার এটি ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হবে। ৪১তম স্প্যানটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে এক নতুন মাইল ফলক রচিত হবে। সেই মাহেন্দ্রখনের অপেক্ষা মাত্র। 

সেতুর ৪২টি খুঁটির সবকটিই স্প্যান বহন করছে। ৪০ টি স্প্যান ইতোমধ্যে বসে সেতু দৃশ্যমান হয়েছে ছয় কিলোমিটার। 

বিদ্যুত গতিতে এখন স্প্যান বসছে। অক্টোবরে চারটি স্প্যান ও নভেম্বরে চারটি স্প্যান বসানো সম্ভব হয়েছে। এ মাসে লক্ষ্য অনুযায়ী একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। অপরটি বৃহস্পতিবার বসানো হচ্ছে। বুধবার বেলা আড়াইটায় মাওয়ার কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৪১তম স্প্যানকে নিয়ে ভাসমান জাহাজের রওয়ানা দেবার কথা রয়েছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূলসেতু)  দেওয়ান  মোঃ আব্দুর কাদের জানিয়েছেন, সেতুর ৪২টি খুঁটির ওপর বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। এর মধ্যে বসে গেছে ৪০টি স্প্যান। জাজিরা প্রান্তে ২০টি স্প্যান বসানো হয়ে গেছে। আর মাওয়া প্রান্তে বসানো হয়েছে ১৯টি স্প্যান। একটি স্প্যান বসেছে মাওয়া ও  জাজিরা প্রান্তের মাঝখানে। আর ১টি স্প্যান বসানো এখনও বাকী আছে। 

এবার  সেতুর দুই প্রান্ত জোড়া লাগার পালা। পুরো সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে যে বাকি  স্প্যানটি বসবে মাঝ নদীতে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০  সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৪০টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৬ কিলোমিটার। ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু তৈরী হচ্ছে। 
এরমধ্যে সবকটি খুঁটি এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল  মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২২ মিটার প্রস্ত এ বহুমুখী  সেতুর মূল আকৃতি হবে  দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ  সেতুর কাঠামো। পদ্মা  সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খুলে  দেয়া হবে।

একুশে সংবাদ /ঢ/ এস