AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ফাঁকা ঢাকায় সুযোগ নিচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা


Ekushey Sangbad
এসআই শফিক
০২:২৩ পিএম, ৩০ মে, ২০২৬

ফাঁকা ঢাকায় সুযোগ নিচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা

পবিত্র ঈদুল আজহায় দীর্ঘ (৭ দিন) ছুটি পেয়ে অধিকাংশ মানুষ গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে চলে যাওয়ায় চিরচেনা রাজধানী ঢাকা এখন একেবারেই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। তীব্র যাত্রী সংকট-প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ নেই, নেই চিরচেনা যানজট ও মানুষের কোলাহল। গণপরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ছুটি শেষে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে রাজধানীতে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ফিরতে পারে। ঈদের এই সময়ে রাস্তায় গণপরিবহনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, আর সেই সুযোগ লুফে নিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দ্বিতীয়দিনের মতো তৃতীয়দিনেও অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে পরিবহনগুলো। এতে চালক ও সহকারীদের দীর্ঘ সময় টার্মিনাল বা কাউন্টারে অলস সময় কাটাতে ও দেখা গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ নেই, নেই চিরচেনা যানজট ও মানুষের কোলাহল। অধিকাংশ মানুষ এখনও ঢাকার বাইরে থাকায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন গণপরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, ছুটি শেষে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে রাজধানীতে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ফিরতে পারে। ফলে ব্যস্ত নগরীর চিরচেনা যানজট, মানুষের ভিড় আর কোলাহল যেন সাময়িকভাবে হারিয়ে গেছে। সড়কে যানবাহনের চাপ কম, অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক— সবখানেই চোখে পড়ছে স্বস্তির পরিবেশ।

অন্যদিকে, ফাঁকা ঢাকায় যাত্রী সংকটের কথা বলছে গণপরিবহন শ্রমিকেরা।

মিরপুর রুটে চলাচলকারী পরিস্থান বাসের চালক আবুল কালাম জানান, ঈদের ছুটি এখনও শেষ না হওয়ায় অনেক মানুষ রাজধানীতে ফেরেননি। ফলে গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। বাস নিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করলেও কোনো ট্রিপেই পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। একই কথা বলেছেন গুলশান-বাড্ডা রুটে চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালকের সহকারী নিজাম। তিনি বলেন, সাধারণ সময় যে সংখ্যক যাত্রী থাকে, এখন তার চার ভাগের এক ভাগও নেই। গাড়ি সব সময় খালিই থাকছে।

গণপরিবহন সংকটে সুযোগ লুফে নিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা: ঈদের এই সময়ে রাস্তায় গণপরিবহনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, আর সেই সুযোগ লুফে নিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা। অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাগুলোতেও গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে রিকশা ও সিএনজির দ্বারস্থ হলেও, চালকরা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস মিলছে না, তার ওপর রিকশা-সিএনজিচালিত অটোচালকরাও বাড়তি ভাড়া চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ছুটির দিনে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া ঢাকার মানুষ যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মতিঝিল থেকে খিলগাঁও যেতে যেখানে রিকশা ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৭০-৮০ টাকা, সেখানে আজ দাবি করা হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে আদাবর থেকে কারওয়ান বাজার বা পান্থপথের মতো দূরত্বে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা, সেখানে আজ ১৮০-২০০ টাকার নিচে কোনো চালক যেতে রাজি হচ্ছেন না।

অপরদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া গেলেও ভাড়া চাচ্ছে দ্বিগুণ। আদাবর এলাকায় থাকেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মালিহা। ঈদের ছুটিতে তাকে পেশাগত কারণে প্রতিদিন অফিসে ছুটতে হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদুল হাসান নামে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, সবেমাত্র ঈদ শেষ হলো। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে তিনি পড়েছেন চরম সংকটে। মিরপুর ২ -এর মোড়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বাসের।

মাহমুদুল বলেন, রাস্তায় গাড়ি একদমই নেই বললেই চলে। যেটা আসছে সেটাও অনেক দেরি করে। আমরা যারা বাসযাত্রী, আমাদের সময় আর ভোগান্তির যেন কোনো দাম নেই। গণপরিবহণ সংকটে পড়ে ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ও বাসের মধ্যে বসে অন্য যাত্রীদের অপেক্ষা এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন মিরপুর থেকে আসা নিরাপত্তাকর্মী রহমত পিয়াল। তিনি বলেন, রাস্তায় জ্যাম নেই, কিন্তু বাস দাঁড়িয়ে আছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে। চালকের কথা হলো গাড়ি তো খালি নিয়ে যেতে পারবো না, যাত্রী পূর্ণ না হলে বাস ছাড়বো না।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডাক্তার শারমীন বলেন, ডিউটিতে যাওয়ার পথে শ্যামলীতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাচ্ছি না।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা, কিন্তু রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়াই যাচ্ছে না। শ্যামলীতে সিএনজির খুব সংকট। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দু-একটি পাওয়া গেলেও ভাড়া চাচ্ছে একদম দ্বিগুণ। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো যেখানে জরুরি, সেখানে সিএনজি খুঁজতেই অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। একই অবস্থা গত তিনদিন ধরে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!