জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস) দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একইসঙ্গে বিদায়ী সদস্যদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।
সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ভবনের সামনের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং টিএসসি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সংগঠনের নতুন ও বিদায়ী সদস্যরা অংশ নেন।
বৃক্ষরোপণকালে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সাংবাদিক সমিতি একটি নতুন ধারণা সামনে এনে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি প্রতীকী হলেও এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে এমন একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে, কারও অধিকার হরণ না করে সবার অধিকার সমুন্নত রাখা উচিত। আমি সাংবাদিক সমিতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
সদ্যবিদায়ী সভাপতি মেহেদী মামুন বলেন, আমরা সবসময় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আজকের এই আয়োজনটি কেবল দায়িত্ব হস্তান্তর নয়, বরং একটি প্রতীকী উদ্যোগ। আমরা যেমন দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছি, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরতে চেয়েছি। সে কারণেই প্রতীকীভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা। নতুন ও পুরাতন কমিটির সদস্যরা একসঙ্গে প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণে গাছ রোপণ করেছি। এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন সূচনার বার্তা দিতে চেয়েছি। যারা দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছি, তাদের জন্য এটি নতুন জীবনের শুরু; আর যারা দায়িত্ব গ্রহণ করছে, তাদের জন্যও এটি একটি শুভ সূচনা।
এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে সদ্য সাবেক সভাপতি মেহেদী মামুন নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো সমাজের বঞ্চিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ভাবে সুবিধাভোগীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমালোচনা ও কুৎসার মধ্যে পার্থক্য অনুধাবনের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। মানুষের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে এবং যুক্তির পক্ষে অবস্থান না নিলে গণমাধ্যম তার উদ্দেশ্য হারায়। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে পেশার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, জাকসু ভিপিসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

