সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

চিকিত্সা সেবা পাওয়া সবার মৌলিক অধিকার

প্রকাশিত: ০৫:১৯ এএম, জুলাই ২২, ২০১৪
একুশে সংবাদ : জনগণের সেবায় যাহারা নিয়োজিত প্রকৃত জনসেবা যদি তাহাদের ব্রত না হয়, তবে জনসাধারণ উহাদের নিকট যে কেবল প্রতারণার শিকারই হইবে, তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। দেশের গ্রামীণ এবং মফস্বল শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যে অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার রাহু গ্রাস করিয়াছে তাহা মানুষের অন্যতম মৌলিক এই প্রয়োজনটির প্রতি অবহেলার শামিল। গ্রাম্য জনপদের সরকারি হাসপাতালে এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় চিকিত্সকের সংখ্যা নগণ্য, ইহার সহিত যুক্ত হইয়াছে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিত্সক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক সংঘটিত নানান অনিয়ম। দৈনিক ইত্তেফাকের জেলাভিত্তিক ধারাবাহিক প্রতিবেদনে দেখা যায়—মফস্বল এলাকায় শতকরা মাত্র পাঁচজন চিকিত্সক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন, বাকিদের কেউ হয় শহরে পরিবারের সহিত বসবাস করেন এবং মাসশেষে বেতন-ভাতা তুলিয়া লন, না-হয় কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী কোনও বেসরকারি চিকিত্সালয়ে সংযুক্ত থাকিয়া চিকিত্সা প্রদান করেন। চিকিত্সাপ্রার্থী রোগীরা অধিক অর্থের বিনিময়ে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করিতে বাধ্য হয়। চিকিত্সক নির্দেশিত বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কখনো কখনো করা সম্ভব হইলেও, অনেকক্ষেত্রে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করিতে উত্সাহিত করা হয়। ফলে রোগীকে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ গুনিতে বাধ্য করা হইতেছে বলিয়াও অভিযোগ রহিয়াছে। অনেকক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ক্রয়কৃত যন্ত্রাদি বত্সরের পর বত্সর অব্যবহূত থাকিয়া যায় । সরকার অতিসমপ্রতি ঘোষণা দিয়াছে, সঙ্কট কাটাইয়া উঠিতে নূতন করিয়া সাড়ে ছয় হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হইবে। সরকারি এই উদ্যোগ সমস্যার আংশিক সমাধান করিবে। নিয়োগ দিলেই যে চিকিত্সকগণ তাহাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকিবেন, সে বিষয়টি অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাইবে? কর্মস্থলে উপস্থিতি লইয়া বারংবার কড়াকড়ি নির্দেশনার পরেও চিকিত্সকগণকে কোনোভাবেই তাহাদের কর্মস্থলে ধরিয়া রাখা যাইতেছে না। বিষয়টি উদ্বেগের নিশ্চয়ই। অথচ ডাক্তারগণ নিয়োগকালেই অবগত যে, প্রয়োজনে দেশের যেকোনো প্রান্তেই তাহাদের পোস্টিং হইতে পারে। নিভৃত পল্লী বা শহর যাহাই হউক, কর্মস্থলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা জনসেবায় নিয়োজিত সকলের অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য। চিকিত্সার মত মহত্ পেশাটিতে সেবার পূর্ণ মানসিকতার কোনও বিকল্প নাই। সরকারি হাসপাতালগুলি দুস্থ মানুষের চিকিত্সার একমাত্র গন্তব্যস্থল। সেখানে এ ধরনের অনিয়ম ও অবহেলা অনভিপ্রেত। সাধারণ মানুষের কাছে চিকিত্সাসেবা পৌঁছাইয়া দিতে যেমন আরও চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন রহিয়াছে, তেমনি প্রদত্ত সেবার মান উন্নয়নেও যথাযথ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত ও নিখুঁত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে সমস্যা অনেকটাই কাটাইয়া উঠা সম্ভব। নানা অনিয়মে অভিযুক্ত সরকারি হাসপাতালসমূহকে নিয়ম-শৃঙ্খলার আওতায় আনিতে কোনরূপ নমনীয়তা প্রত্যাশিত নহে। মফস্বলে ডাক্তারগণ নগরে কর্মরত ডাক্তারগণের তুলনায় স্বল্প সুযোগ-সুবিধায় দিন যাপন করেন। কী করিয়া তাহাদের জীবনমানের এই বৈষম্য কমাইয়া আনা যায়, তাহাও ভাবিতে হইবে। অন্যদিকে চিকিত্সকগণকে সকলপ্রকার স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হইবে মানুষের সেবা ও প্রকৃত সেবার মানসিকতাকে। চিকিত্সার মত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটিতে কোনোরূপ দায়িত্বে অবহেলা কাম্য নহে। একুশে সংবাদ ডটকম/আর/২২-০৭-০১৪:

বিভাগের আরো খবর

You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'ORDER BY bn_content.ContentID DESC LIMIT 8' at line 1