সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

১০টি মজার তথ্য সিঙ্গাপুর নিয়ে

প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, জুলাই ৪, ২০১৫
একুশে সংবাদ : সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে আলাদা হয়ে মালয়েশিয়ার সাথে মিলে রাষ্ট্র গঠন করে ১৯৬৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ২ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ১৯৬৫ সালের ৯ আগস্ট তারা এক রক্তপাতহীন চুক্তির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করে। সেই থেকে প্রতি বছর ৯ আগস্ট সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস পালিত হয় এবং এই বছরের ৯ আগস্ট সিঙ্গাপুর তাদের স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ৫০ বছর পুর্তি পালন করবে।     ২। সেই শুরু থেকে সিঙ্গাপুরে একটিই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায়। দলটির নাম পিপলস একশন পার্টি, যা সংক্ষেপে পিএপি নামে পরিচিত। লি কুয়ান ইয়ু, যাকে আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক বলা হয় তিনি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি একটানা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন গোহ চক তং, যিনি একি দলেন অন্য একজন খুব জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০৪ থেকে ক্ষমতা নেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং যিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ`র পুত্র।     ৩। শুরু থেকেই সিঙ্গাপুরে বিরোধীদলকে সংগঠিত হতে দেয়া হয়নি। সিঙ্গাপুরের অসাধারণ উন্নয়নের জন্যে লি কুয়ান ইউ যেমন সারা বিশ্বে বিখ্যাত তেমনি বিরোধী নেতা কর্মীদের নানাভাবে জেলে আটকে রাখা, কূটকৌশলে ঋণ খেলাপি করা ইত্যাদি কারনে তিনি সমালোচিতও। ১৯৮৪ সালে বিরোধীদল প্রথমবারের মত ৭৪ টি আসনের মধ্যে ২টি আসন পায়, ১৯৮৮ তে ৭৭ টি আসনের মধ্যে ১টি পায়। ১৯৯১তে ৮১ টি আসনের মধ্যে ৪টি, ১৯৯৭, ২০০৬ ও ২০০১ এর নির্বাচনে ২টি করে আসন পায় বিরোধিদল।     ৪। সিঙ্গাপুরে ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক। না দিলে জরিমানার ব্যবস্থা আছে। আর প্রত্যেকের ব্যালট পেপার নির্বাচনের আগের দিন তার বাসার ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়া হয় তার ন্যাশনাল কার্ড নাম্বার সহ। বাসা থেকে সিল মেরে, কেন্দ্রে এসে শুধু সিল মারা ব্যালট পেপারটা জমা দিলেই হয়। যেহেতু ব্যালটে ন্যাশনাল কার্ড নাম্বার থাকে, তাই এটা সহজেই বের করা সম্ভব কে কাকে ভোট দিয়েছে। এই কারণেও অনেক নাগরিক বিরোধীদলকে ভোট দিতে ভয় পায়।     ৫। বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম ধনী রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। বিশ্বব্যাংকে তাদের রিজার্ভ, জাপান এবং চীনের চাইতেও বেশি। অথচ সিঙ্গাপুরের আয়তন মাত্র ৭১৮ বর্গকিলোমিটার যা আমাদের দেশের ঢাকা জেলার চাইতেও ছোট (৮১৮ বর্গকিলোমিটার)। জনসংখ্যা ৫৪ লক্ষ যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ বা ১৮ লক্ষ লোক কর্মসুত্রে অন্যান্য দেশ থেকে আসা অস্থায়ী নাগরিক।     ৬। সিঙ্গাপুরের স্থায়ী নাগরিকদের ৮৭ ভাগেরই নিজস্ব বাড়ি আছে। যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বাড়ি মালিকানার হার। তবে গাড়ি কিনতে হলে সরকারকে কর দিতে হয় প্রায় ৭৫০০০ সিঙ্গাপুর ডলার যা বাংলাদেশের মুদ্রামানে হয় প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।     ৭। সম্প্রতি এক জরিপে সিঙ্গাপুর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের খেতাব পেয়েছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো। সেই সাথে সবচেয়ে কম অপরাধপ্রবণ রাষ্ট্রের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে সিঙ্গাপুর। সবচেয়ে বেশি বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় জেনেভা আর জুরিখের পরে তৃতীয় স্থানে।     ৮। সিঙ্গাপুরের নিজস্ব কোন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা নাই। পুরো বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় মালয়েশিয়া থেকে। এখানে কোন লোডশেডিং নেই। মোট প্রয়োজনীয় পানিরও ৫০ ভাগ আমদানি করা হয় মালয়েশিয়া থেকে, আর বাকি ৫০ ভাগ নিজেদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে। খাদ্যের প্রায় ৯৭ ভাগ আমদানি করা হয়। সিঙ্গাপুরে কৃষি অত্যন্ত সীমিত। হাতে গোনা কয়েকটি হাঁস মুরগি, মাছের ফার্ম, উচ্চপ্রজাতর ঘাস চাষ ছাড়া কৃষিকাজ তেমন হয় না এইখানে।     ৯। সিঙ্গাপুরের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে রপ্তানি এবং বন্দর। সিঙ্গাপুর অনেক ইলেকট্রনিকস, রাসায়নিক এবং সেবা জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে। সিঙ্গাপুরের পোর্ট হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বন্দর। এই বন্দরের অত্যন্ত পেশাদার সেবা এবং দক্ষ কর্মশক্তির কারণে অনেক জাহাজ এই বন্দর ব্যবহার করে। এছাড়াও রয়েছে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প যেটাতে সিঙ্গাপুর খুব বিখ্যাত। আর দেশের ভিতর সকল ধরনের সেবামূলক শিল্প সরকার নিজে তত্ত্বাবধান করে যেমন পরিবহন খাত, আবাসন খাত, শপিং মল, পার্ক ও বন জঙ্গল, সব সরকার নিজে তৈরি করে জনগণের কাছে বিক্রি বা ভাড়া দেয়। এই কারণে সিঙ্গাপুর সরকার অত্যন্ত ধনী।     ১০। সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিকে বিশ্বের সবচেয়ে মুক্ত অর্থনীতি বলা হয় এবং যেসব দেশে ব্যবসা চালু করা সবচেয়ে সহজ তার একটি জরিপে সিঙ্গাপুর প্রথম হয়েছে। যেসব দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত সেসব দেশের তালিকায় সিঙ্গাপুর সপ্তম। সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে তৃতীয়।   একুশে সংবাদ/এম/ইয়াসমিন/০৪/০৭/১৫

বিভাগের আরো খবর

You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near 'ORDER BY bn_content.ContentID DESC LIMIT 8' at line 1