ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

বরিশালে ভাসমান বেডে সবজি চাষে সফলতা


Ekushey Sangbad
কৃষি ডেস্ক
০১:৩২ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
বরিশালে ভাসমান বেডে সবজি চাষে সফলতা

বরিশালে ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে কৃষকরা সফল হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এতো দিন জলাবদ্ধ যে জমি ছিলো প্রান্তিক কৃষকের গলার কাঁটা, তা বর্তমানে নতুন করে দেখাচ্ছে স্বপ্ন। মাটি ছাড়া ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মসলার ব্যাপক উৎপাদনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ভীড় করছেন কৃষকরা। সূত্র জানায়, বিভাগের তিন জেলা বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির অন্তত ৩ লাখ হেক্টর নিচু জমি বছরের অর্ধেকটা সময় বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকে। স্থানীয়রা জলাবদ্ধ এসব জমিতে কচুরীপানার বেড তৈরি করে বিভিন্ন জাতের সবজীর চারা উৎপাদন করেন। এইসব ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ করতে সম্প্রতিক বর্তমান সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প হাতে নেয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বরিশাল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তত্বাবধানে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জলাশয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে বিষমুক্ত লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। এসব ভাসমান বেডে সবজী ও মসলা চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে ভাসমান বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের আওতায় তিন জেলার একাধিক উপজেলায় ভাসমান বেডে বিভিন্ন জাতের সবজি ও মসলা চাষ করা হয়েছে। জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলার নয়াকান্দি, শিবপুর, রাজাপুর, উত্তর সাতলা, পটিবাড়ী গ্রামের প্রান্তিক কৃষকেরা ভাসমান সবজি চাষে ইতিমধ্যে সমৃদ্ধি এনেছে।

এ বিষয়ে আবুল হোসেন, সোহাগ ব্যপারী ও মনির কাজী বলেন, এখানে আমরা চলতি বছর পানির মধ্যে ভাসমান বেড তৈরী করে লাউ, কুমড়া, করলা, জালি কুমার, শশা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করছি। এতে আমরা অথনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হয়েছি।

এ বিষয়ে নগরীর স্টিমার ঘাট (সিটি মার্কেট)-এর পাইকারী সবজি বিক্রেতা সোহরাফ আলী বলেন, বরিশাল সদর, গৌরনদী, উজিরপুর,বানরীপাড়া, আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ ও আশপাশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আনতেন। বর্তমানে শীত মৌসুমে উজিরপুরের গুঠিয়া, জল্লা, বামরাইল, হারতায় উৎপাদিত সবজি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে একমাত্র সাতলার ভাসমান সবজিই ভরসা।

এ ব্যপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোসাম্মৎ মরিয়ম জানান, ২৫-৩০ বছর আগে থেকে এসব এলাকায় সামান্য পরিমাণে ভাসমান সবজি চাষ হতো। মুলত ২০১০ সালের পরে সবজি চাষ বৃদ্ধি পায়। পরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ ও পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমেও আমরা সবজি উৎপাদনে প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র কুন্ডু জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ (সেইফ ফুড) করে কৃষকরা স্বাবলম্বী। কৃষকে যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োগ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বেশ ভাল প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

একুশে সংবাদ/ বা.স.স/ রখ